লালমনিরহাটে পিটিয়ে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় তিন মামলা, আটক ৫

 

 

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারীতে কথিত কোরআন শরীফ অবমাননার অভিযোগ তুলে শহীদুন্নবী জুয়েল নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা এবং লাশ পুড়ে ফেলার ঘটনায় ৩টি মামলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত গ্রেফতার হয়েছে ৫ জন।

নিহতের পরিবার, বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদ ও পুলিশ বাদী হয়ে শুক্রবার রাতে মামলা ৩টি দায়ের করেন।

এদিকে শনিবার সকাল ১১ টায় লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারীতে গিয়ে শহিদুন্নবী জুয়েলকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন রংপুর রেঞ্জর ডিআইজি দেবদাশ ভট্টাচার্য্য ও রংপুর বিভাগীয় কমিশনার আবদুল ওয়াহাব ভুঞা। তারা ওই কেন্দ্রীয় মসজিদের ঈমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমসহ বিভিন্ন লোকের সাথে কথা বলেন।
এরপর পাটগ্রাম উপজেলা পরিষদের শহীদ আফজাল হোসেন মিলনায়তনে এসে পাঁচ শতাধিক আলেম-ওলামা ও মসজিদের ঈমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের সাথে গুজব রোধে গুরুত্বপূর্ণসভা করেন।
আলেম সমাজের সাথে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

পুরো ঘটনায় কারো না কারো ইন্ধন থাকতে পারে বলে মনে করছে পুলিশের রংপুর রেঞ্জর ডিআইজি দেবদাশ ভট্টাচার্য্য। আর জঙ্গির সম্পৃক্ততা আছে কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার আবদুল ওয়াহাব ভুঞা বলেন, এ বিষয়ে এখনেই কিছু বলা যাবে না। বিষয়টি তদন্ত করে বলতে হবে।

এর আগে বৃহস্পতিবার মাগরিবের নামাজের আগে বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদের দরজা ভেঙে ওই যুবককে বের করে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরে লাশ নিয়ে বুড়িমারী বাঁশকল এলাকায় লালমনিরহাট-বুড়িমারী জাতীয় মহাসড়কের ওপর কাঠখড়ি ও পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা।

নিহত শহীদুন্নবী জুয়েল রংপুর শহরের শালবন মিস্ত্রি পাড়ার মৃত আবু ওয়াজেদ মিয়ার ছেলে। তিনি রংপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক লাইব্রেরিয়ান।

আলেম সমাজের সাথে বৈঠক শেষে পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি দেবদাশ ভট্টাচার্য্য সাংবাদিকদের আরও বলেন, বুড়িমারীতে যুবককে পিটিয়ে হত্যা ও লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় অন্য কারো হাত থাকতে পারে।

আর পুরো ঘটনাটিকে তদন্ত করে বের করে জড়িতদের আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিভাগীয় কমিশনার আবদুল ওয়াহাব ভূঞা।

এ ঘটনায় জঙ্গি সম্পৃক্ততা আছে কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে বিভাগীয় কমিশনার আবদুল ওয়াহাব ভুঞা বলেন, এ বিষয়ে এখনোই কিছু বলা যাবে না। বিষয়টি তদন্ত করে বলতে হবে। তবে আমার মনে হচ্ছে এ ঘটনায় জঙ্গি সম্পৃক্ততা নেই ।

পাটগ্রামের ইউএনও কামরুন নাহার সাংবাদিকদের বলেন, খবর পাওয়া মাত্রই আমি বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদে চলে যাই। আমার কথায় প্রথমে উত্তেজিত জনতা শান্ত হয়েছিলো, তখন লোকজনও অনেক কম ছিলো। কিন্তু হঠাৎ করে কিছু বহিরাগত লোকের আগমন ঘটে। তারা শান্ত পরিস্থিতিকে উত্তেজনাকর করে তোলেন। পুলিশ ফাঁকা গুলি করেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। ফলে এমন ঘটনাটি ঘটেছে।

তদন্ত প্রক্রিয়া কতদূর সম্পন্ন হয়েছে জানতে চাইলে পুলিশের রংপুর রেঞ্জর ডিআইজি দেবদাশ ভট্টাচার্য্য বলেন, তদন্ত প্রক্রিয়া অনেকদূর এগিয়েছে। এ ঘটনায় তিনটি মামলা দায়ের হয়েছে। এ সব মামলায় যাদের আমরা এরই মধ্যে শনাক্ত করতে পেরেছি, তাদের আসামি করা হয়েছে। বাদ বাকি আসামিদের আমরা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।

ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড মনে করছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ডিআইজি বলেন, আমরা মনে করি, এ ঘটনায় কারো না কারো ইন্ধন রয়েছে। না হলে এমন একটা তুচ্ছ ঘটনা, যেটা কিনা ঘটনাই নয়, সেটা নিয়ে এমন বড় কিছু হওয়ার কথাই নয়। যারাই থাকুক ঘটনার সামনে কিংবা পেছনে, তাদের খুঁজে বের করা হবে।

রংপুর বিভাগীয় কমিশনার আবদুল ওয়াহাব ভুঞা বলেন, বুড়িমারীতে শহিদুন্নবী জুয়েল নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনাটি অত্যন্ত অমানবিক এবং দুঃখজনক। উত্তেজিত উচ্ছৃঙ্খল জনতাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে। পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুঁড়েও তাদের থামাতে পারেনি। এ ঘটনায় যারা জড়িত তাদের প্রত্যেককে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।