লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ কিশোরীকে গণধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি নুরু নারায়ণগঞ্জ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার

ধর্ষক নুরু

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে ১৭ বছর বয়সী কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামী নুরু মিয়াকে নারায়নগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধর্ষণে অভিযুক্ত ৪০ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি কালীগঞ্জের তালুক বাণীনগর এলাকার মো. মজির ছেলে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও কালীগঞ্জ থানার ওসি(তদন্ত) ফরহাদ মন্ডল জানান, তার নেতৃত্বে কালীগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল আজ শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ভোরে ফতুল্লা মডেল থানা এলাকা থেকে নুরুকে গ্রেপ্তার করে কালীগঞ্জ থানায় আনা হয়েছে। শনিবার তাকে আদালতে পাঠানো হবে।

এর আগে ওই মামলার চার নম্বর আসামি রকিকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।

ধর্ষক নুরু

ধর্ষণের শিকার ওই কিশোরী গত ১০ অক্টোবর কালীগঞ্জ থানায় সাত ধর্ষকসহ ১০ জনের নামে মামলা করেছিল। মেয়েটির বাড়ি পাটগ্রাম উপজেলার বাউরা ইউনিয়নে।

পুলিশ জানায়, গত ৬ অক্টোবর ট্রেনে পাটগ্রাম থেকে এসে কালীগঞ্জের কাকিনা রেল স্টেশনে নেমে একটি দোকানে খাওয়ার জন্য ঢোকে ওই কিশোরী। সেখানে থাকা রকি কৌশলে তাকে আর ট্রেন ধরতে না দিয়ে ইজিবাইকে গন্তত্যে পৌঁছে দেয়ার কথা বলে সেখান থেকে নিয়ে যায়। এরপর বিভিন্ন জায়গায় ঘুরিয়ে রাতে একটি সেচপাম্পের ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে। এরপর সারারত আরও কয়েকটি জায়গায় একাধিক ব্যক্তি ধর্ষণ শেষে ভোরের দিকে ট্রাকে উঠিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু এতে বাধ সাধে সে। সকালে খোঁজ নিয়ে রকির বাড়িতে বিচার নিয়ে গেলে বাবা-মায়ের সামনে তাকে মারধরও করা হয়। পরে সেখান থেকে স্টেশন এলাকার একটি বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেয় কিশোরীটি। সেখান থেকে কালীগঞ্জ প্রেসক্লাবে গিয়ে সাংবাদিকদের ঘটনাটি জানায়। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

মামলায়, গ্রেপ্তারকৃত রকি ও নুরুসহ ধর্ষক হিসাবে সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়। এছাড়া সালিসকারী হিসাবে বাণীনগর এলাকার রিক্সা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা সোলায়মান আলী, তুষভান্ডার ইউনিয়নের আট নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আজিজুল ইসলাম এবং স্থানীয় একটি অনলাইন পত্রিকার সম্পাদককে আসামি করা হয়।