প্রাডো গাড়িতে হিরো আলম, দুই দিকে মানুষ আর মানুষ

হিরো আলম প্রাডো আর দুইদিকে শত শত মানুষ, ঠিক এমনটাই দেখা গেল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কয়েকটি সিনেমা হলে। গতকাল থেকে সারাদেশের সিনেমা হল খুলে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মুক্তি পায়নি কোনো নতুন ছবি আর এই সুযোগটাকেই লুফে নিয়েছেন বগুড়ার আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম। গত মার্চে মুক্তি দেওয়ার অপেক্ষায় থাকা তার প্রযোজনা নির্মিত ছবিটি মুক্তি দিলেন করোনা পরবর্তী হল খুলে দেওয়ার প্রথম সপ্তাহেই।

গত বছর আশরাফুল আলম নিজের প্রযোজনায় সাহসী হিরো আলমের নামের একটি ছবি নির্মাণের কাজ শুরু করেন, যার সম্পূর্ণ কাজ সম্পন্ন হয় চলতি বছরের গোড়াতেই। আলম ছবিটি মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা করেন মার্চ মাসের শেষদিকে। কিন্তু বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও করোনা আঘাত করে মার্চের গোড়ার দিকে। ফলে মার্চের মাঝামাঝি পেরোতেই জনজীবনে স্থবিরতা নেমে আসে। মাসের শেষদিকে ঘোষণা করা হয় সাধারণ ছুটি। কার্যত লকডাউন হয়ে পড়ে গোটা দেশ। অন্যান্য সকল কিছুর মতোই বিনোদন মাধ্যমেও আঁচ লাগে করোনার তাণ্ডব। বন্ধ ঘোষণা করা হয় দেশের সকল হল।

অক্টোবরের ১৬ তারিখ অর্থাৎ শুক্রবার অর্ধেক আসনে বসার শর্তে খুলে যায় দেশের সকল সিনেমা হল। এ ছাড়া সিনেমা হল কর্তৃপক্ষকে সব ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হয়। এদিকে সিনেমা হল খোলার দিনেই মুক্তি ৪০ টি হলে মুক্তি পায় আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম প্রযোজিত ও অভিনীত সিনেমা সাহসী হিরো আলম।

মুক্তির প্রথম দিনেই রাজধানীর চিত্রামহল, জিঞ্জিরার নিউ গুলশান হল, ফার্মগেটের আনন্দ সিনেমাসহ নারায়ণগঞ্জে নায়িকা সমেত একটি পাজেরো নিয়ে হিরো আলম ঘুরে বেড়ান। এসময় হিরো আলমকে দেখতে সিনেমা হলগুলোর সামনে উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। একের পর এক সেলফি তোলা, দর্শকদের হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানানো, হলের ভেতরে ভক্তদের উদ্দেশ্যে দু’চার কথা বলতে শোনা যায় যায় আলমকে।

আশরাফুল আলমের দাবি, তাঁর ছবি মোটামুটি ভালোই চলছে। তিনি বলেন, ‘আমি বলব না আমার ছবি সুপার ডুপার হিট। কিন্তু আমার ছবি বিভিন্ন হলে চলছে, মানুষজন দেখতে আসছে। এসব দেখেই আমি সন্তুষ্ট। আমার ভালো লাগছে যে এতো মানুষ হলে আসছে, আমি আশা করি নাই। আমি বলব আলহামদুলিল্লাহ।’

দেশের ৬৬ টি হলে শুক্রবার থেকে ছবি প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। যার মধ্যে ৪০ টি হলে সাহসী হিরো আলম ও বাকি হলগুলোতে পুরনো ছবি চলছে।