লালমনিরহাটে মাটির নিচে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিমানের ধ্বংসাবশেষের উদ্ধার

লালমনিরহাট সদর উপজেলার গোকুন্ডা ইউনিয়নের পুকুর খনন করতে গিয়ে সন্ধান মিলেছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহৃত যুদ্ধ বিমানের ধ্বংসাবশেষ।

খবর পেয়ে শনিবার সকাল থেকে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে বিমান বাহিনী, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।

এর আগে শুক্রবার বিকেলে ওই ইউনিয়নের গুড়িয়াদহ দাড়ারপাড় গ্রামের রেজাউলের পুকুর খনন করতে গিয়ে তা দৃশ্যমান হয়।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, নিজের জমিতে পুকুর খনন শুরু করেন গুড়িয়াদহ দাড়ারপাড় গ্রামের রেজাউল। খননের এক পর্যয়ে শুক্রবার বিকেলে একটি বিমানের পিছনের অংশের ধ্বংসাবশেষ দেখতে পান শ্রমিকরা।

এ সময় স্থানীয়দের খবরে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জায়গাটি দখলে নিয়ে খনন কাজ বন্ধ করে দেন। সংশ্লিষ্ঠ দফতগুলোতে খবর পাঠায় পুলিশ।

শনিবার সকালে বিমান বাহিনী লালমনিরহাট ইউনিট, লালমনিরহাট ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ যৌথ ভাবে বিমানটির উদ্ধারে খনন কাজ শুরু করে।

এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত বিমান বাহিনীর সদস্যরা মাটির নিচ হতে ১টি ফুয়েল বার্নিং এডজাস্ট, ২টি লেন্ডিং এয়ার, ১টি ট্রোপেলার ইঞ্জিনসহ কিছু সংখ্যক এয়ারক্রাফট, এ্যামুনেশন ও পাইলটের ব্যবহৃত আংটি উদ্ধার করা হয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেন।

স্থানীয়রা জানায়,শুক্রবার সকাল থেকে ওই এলাকার মৃত আব্দুস সোবাহান বাবুর ছেলে রেজাউল করিমের ৭০ শতাংশ একটি উচু জমি চাষাবাদের উপযোগী করার জন্য শ্রমিক দিয়ে খনন কাজ শুরু করে। দুপুরে মাটি খননের সময় শ্রমিকরা একটি লোহার অংশ দেখতে পায়। শ্রমিকরা লোহার অংশটি উত্তোলনের পরে তাদের মনে বিমানের অংশবিশেষ সন্দেহ হলে তারা বিমান বাহিনীর লালমনিরহাট জেলা ইউনিটকে অবহিত করে। সন্ধ্যায় বিমান বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও পরীক্ষা নিরীক্ষা করে জানতে পারে এটি বিমানের ধ্বংসাবশেষ।

জমির মালিক রেজাউল বলেন, আমি বাবা-দাদার মুখে গল্প শুনে ছিলাম এক সময় এখানে একটি যুদ্ধ বিমান বিধ্বস্ত হয়েছিলো। আমি জানতাম না যে, আমার জমিতে এই বিমানটি পাওয়া যাবে। খননের সময় শ্রমিকরা দেখে আমাকে জানালে আমি বিষয়টি বিমান বাহিনীর সদস্যদের অবহিত করি।

ধারনা করা হচ্ছে ১৯৪৭ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত মার্কিন যুদ্ধ বিমান এটি। মৃত পাইলটের ব্যবহৃত আংটিও উদ্ধার করা হয়েছে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত লালমনিরহাট বিমান বাহিনীর ফ্লাইড ল্যাপ্টেনেন্ট মাসুদ বলেন, স্থানীয়দের খবরে খনন করে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। উদ্ধার শেষ হলে যাবতীয় তথ্য তুলে ধরে প্রেস ব্রিফিং করা হবে। তবে এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহৃত মার্কিন যুদ্ধ বিমান বলে প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে।