খালেদা জিয়ার যোগ্যতা নিয়ে বিএনপি নেতা শাহ মোয়াজ্জেমের ধৃষ্টাচার

 

ডেক্স রিপোর্টঃ সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন ভাবমূর্তি নিয়ে টেলিভিশনে প্রচারিত একটি প্রতিবেদন নিয়ে দলের ভেতর তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিশেষ করে দলের দুই ভাইস-চেয়ারম্যানের বক্তব্য ঘিরে চলছে সমালোচনার ঝড়।

বিএনপির বর্তমান সাংগঠনিক অবস্থা ও নির্বাহী আদেশে কারামুক্ত হওয়ার পর চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আপোসহীন ভাবমূর্তি নিয়ে দল কি ভাবছে তা নিয়ে প্রতিবেদন প্রচারিত হয়। প্রতিবেদনটিতে দলের দুই জ্যেষ্ঠ নেতার পাশাপাশি রাজনীতি বিশ্লেষকের মতামতও তুলে ধরা হয়।

ওই প্রতিবেদনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন তার বক্তব্যকে খন্ডিতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে দাবি করে প্রতিবাদ পাঠিয়েছেন। তবে সংবাদ ভিত্তিক চ্যানেলটির দাবি তার বক্তব্য খন্ডিত ভাবে তো নয়ই বরং তিনি যা বলেছিলেন তা-ই প্রচার করা হয়েছিল।

টেলিভিশনে প্রচারিত ওই প্রতিবেদনে তিনি বলেছিলেন, (খালেদা জিয়া) আপসহীন ঠিক আছে, কিসের আপসহীন? আপস না করলে উনি আসলেন কিভাবে? আপস না করে বেরিয়ে আসলেন কি করে? সরকারের কথা শুনেই তো বের হয়ে আসলেন। আপসহীন হলে তো বলতো আমি বের হব না।

তিনি আরো বলেছিলেন, শুনি যে খুব নাকি অসুস্থ। খুব যদি অসুস্থ হয়ে থাকেন তাহলে রাজনীতি কিভাবে করবে। তারপরে রাজনীতি করার জন্য অনেক কিছু প্রয়োজন হয়। লেখাপড়া জানা দরকার, সেটা নাই। অভিজ্ঞতা দরকার, সেটা নাই। হ্যা জিয়া যখন মারা গেছেন তখন বউ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, এইতো। দি অনলি কোয়ালিটি এন্ড দি অনলি ক্রিডেনশিয়াল ইজ দ্যাট শি ইজ দ্যা উইডো অব জিয়াউর রহমান। এ কারণেই তো তিনবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। আর সেই জিয়াউর রহমানের বিচারটা হলো না কেন।

ওই সাক্ষাৎকারে খালেদা জিয়ার রাজনীতি ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন মন্তব্য করেছিলেন। তিনি বলেছেন, বেগম জিয়ার রাজনৈতিক ভবিষ্যত আল্লাহ বলতে পারবেন, আমি কিভাবে বলবো। উনি রাজনীতি করেছেনই বা কবে, আর রাজনৈতিক ভবিষ্যত কি? উত্তরাধীকার সূত্রে প্রাপ্ত রাজনীতি, লেখাপড়া না জানা একজন মহিলা, আমি তো কোন রাজনীতি দেখলাম না তার। আমি যতদিন দেখলাম। আমার কোন কথা সে রাখলো না। একটা রাজনৈতিক লোকের প্রথম কথা হলো, কথা রাখতে হবে।

দলের ভেতর থেকে দাবি উঠেছে, ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। বাগেরহাট জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি কাজী খায়রুজ্জামান শিপন বলেন, আমরা শ্রদ্ধেয় এই নেতার কথায় অত্যন্ত মর্মাহত হয়েছি। উনি উনার বক্তব্য প্রত্যাহার করবেন। অন্যথায় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আমাদের জোরালো দাবি রইলো।

বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুণ রায় বলেন, যারা এরকম বিতর্কিত বক্তব্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত, আমি মনে করি দলে সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারকমণ্ডলী থেকে এর একটা প্রতিবাদ বলেন বা দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা দেখবো বলে আশা করছি।