সরকারকে আর সময় দেওয়া যাবে না : ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক,সরকারকে আর সময় দেওয়া যাবে না বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সিলেটের এমসি কলেজ, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে নারী নির্যাতন বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে আজ শুক্রবার সকালে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জাতিসংঘের মহাসচিব তিনি পর্যন্ত উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এই ঘটনাগুলোতে। এর চেয়ে লজ্জা কী হতে পারে একটা জাতির জন্য। যে জাতি স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছে, যে জাতির গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা অতীতে করেছিল, যে জাতি আজকে উন্নয়নের জন্য লড়াই করছে সেই জাতিকে আজকে ধর্ষণের মতো ভয়ঙ্কর একটা অবস্থায় আজকে চিত্রিত হতে হচ্ছে। এটার একমাত্র পথ হচ্ছে-আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এই সরকারকে সরাতে হবে, তাদেরকে আর সময় দেওয়া যাবে না। এরা জনগণের বিরুদ্ধে সরকার।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সমাজের এই ভয়াবহতা, আমাদের বেঁচে থাকার অধিকার, আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার যদি প্রতিষ্ঠা করতে হয় আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। দলমত-ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই সরকারকে সরাসরি বলতে হবে-আর কোনো সময় দেওয়া যাবে না।’

‘আর কোনো সময় দিলেই এখন এর পরিণতি ভালো হবে না। আসুন আজকে আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের গণতন্ত্রের মাতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবার জন্যে, আমাদের নেতা তারেক রহমানে ফিরে আনার জন্য আমরা এদেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চাই, আমরা জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চাই নারী ও শিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চাই। আসুন আমরা সবাই সেই লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হই’, যোগ করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ এই নেতা।

শিক্ষা বোর্ডের সার্কুলার প্রসঙ্গে

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকে পত্রিকায় একটা খবর এসছে যে, উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা যারা দিচ্ছে বা যারা স্কুলে পড়ছে তাদের উদ্দেশ্যে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড থেকে একটা সার্কুলার দেওয়া হয়েছে। এই সার্কুলারের মধ্যে লিখেছে যে, তারা কেউ এমন কোনো সোশ্যাল মিডিয়াতে কোনো বক্তব্য দিতে পারবে না যেটা সরকারের বিরুদ্ধে যাবে, সরকারের ভাবর্মূতি ক্ষুণ্ন করবে। এই থেকেই প্রমাণিত হয়, আজকে একেবারে সেই কিশোর অবস্থা থেকে এই দেশে ছাত্রদেরকে, কিশোরদেরকে, তরুণদেরকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে। আজকে বিস্মিত হতে হয় যে-স্কুল-কলেজ পর্যায়ে সার্কুলার জারি করে তাদের মতপ্রকাশের যে স্বাধীনতা, সেই স্বাধীনতাকে ধ্বংস করা হচ্ছে। এটা শুধু এখানে নয়, সারা দেশে সাংবাদিকরা, রাজনীতিবিদরা, এমনকি যারা আইন পেশায় আছেন তারাও আজকে তাদের মতামত প্রকাশ করতে পারছে না।’

তিনি বলেন, ‘এরকম একটা পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের মানুষ পড়েছে যারা সারা জীবন একটা মুক্ত অবস্থায় বাস করতে চেয়েছে, যারা মুক্ত অবস্থায় বাস করার জন্য সংগ্রাম করেছে, স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছি আমরা। এমন বাংলাদেশ তো আমরা দেখতে চাইনি। আমরা তো দেখতে চেয়েছিলাম একটা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ, যেদেশে যে রাষ্ট্রের মানুষের স্বাধীনতা থাকবে, বহুমত থাকবে। বহুমতের ভিত্তিতে গণতান্ত্রিক সৌরভ ছড়িয়ে দেবে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়া্উর রহমান সাহেব সেইজন্যই বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করে বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন, একদলীয় শাসন বাতিল করেছিলেন।’

তিনি বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম বেগম খালেদা জিয়া তিনি সংসদীয় গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করে আবার দেশে গণতন্ত্র চালু করলেন। আজকে এক যুগ ধরে এদেশের মানুষ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তারা মানুষের অধিকারকে ধ্বংস করেছে এবং আজকে ন্যূনতম মানুষের বেঁচে থাকার যে অধিকারগুলো একজন নারী, একজন শিশুর যে অধিকার সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।’

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘যারা দুস্ককর্ম করছে, অনাচার করছে তাদের পৃষ্ঠপোষক এই সরকার। তাদের পৃষ্ঠপোষক না হলে সমাজের মধ্যে এই সম্ভমহানি, নারী ও শিশু নির্যাতন বার বার কেন হবে? এরা যে পৃষ্ঠপোষক তার অনেক দৃষ্টান্ত রয়েছে। আপনারা জানেন, ২০০৯-১০ সালে নাটোরের উপজেলা চেয়ারম্যান নুর হোসেন বাবুকে যুবলীগ-ছাত্রলীগের ছেলেরা হত্যা করে তার লাশের ওপর নাচানাচি করেছে। বহুদিন অতিবাহিত হয়ে গেলো চার্জসিট দেওয়া হয়নি। কারণ ওই হত্যাকারীদের বাঁচাতে চায় সরকার। আজকে প্রত্যেকটি ঘটনার সাথে সরকারের অঙ্গসংগঠনের জড়িতদের প্রতিদিন তাদের নাম পত্রিকায় আসছে। ওবায়দুল কাদের, হাছান মাহমুদ আপনাদের টনক নড়ে না।’

মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাসের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খানের পরিচালনায় মহিলা দলের নেওয়াজ হালিমা আরলি, নিলোফার চৌধুরী মনি, শাম্মী আখতার, অপর্না রায়সহ মহানগরের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।