হাতীবান্ধায় পেটের ব্যাথা সইতে না পেরে বৃদ্ধের আত্মহত্যা

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় পেটের ব্যাথা সইতে না পেরে গলায় রশি দিয়ে জয়নাল আবেদীন (৭০) নামে এক বৃদ্ধ আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে।
রবিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার দক্ষিণ পারুলিয়া (বটতলা) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

মৃত জয়নাল আবেদীন ঐ এলাকার মৃত হযরত আলী তালুকদারের ছেলে। পেশায় মৎস্যজীবী ও গ্রামে বিভিন্ন ধরনের তেলেভাজা খাবার বিক্রি করে জীবিকার নির্বাহ করতেন। এলাকায় তাকে জয়নাল দোকানী বলে সবাই চিনে।

জানা গেছে, মৃত জয়নাল দোকানী গতকাল বিকালে দুটি খলাই (মাছ শিকারের জন্য বাঁশের তৈরী) বটতলায় বিক্রি করে। সেই টাকা দিয়ে বাজার করে বাড়িতে দিয়ে ঘুন্টিবাজারে যায়। সেখান থেকে পেটের ব্যাথার জন্য ঔষধ নিয়ে এসে বাড়িতে সামান্য কিছু ভাত খেয়ে ঔষধ খায়। রাত ১১টার দিকে জাকেরের মাহফিলে যাবার কথা বলে আবারও বাহিরে যায়।
সকাল ৬টার দিকে প্রতিবেশী মন্টুর ছেলে মঞ্জু মিয়া (৩০) নদীর পাড়ে গরুর জন্য ঘাস কাটতে গিয়ে দেখেন জয়নাল দোকানী একটি ইউক্লিভটার গাছের ডালে গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। পরে স্থানীয়রা খবর দিলে থানা পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে পাঠান।
এলাকাবাসীও জানান, জয়নাল দোকানী দীর্ঘদিন হতে পেটের ব্যাথার রোগে ভুগছিলেন। অনেক চিকিৎসা করেও তার সে রোগ সারেনি। এজন্য তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে তাদের ধারণা।

মৃত জয়নালের স্ত্রী ফিরোজা বেগম (৬০) জানান, তার স্বামীর পেটের ব্যাথার অসুখ ছিলো। এর আগে দুইবার অপারেশন করলেও রোগ সারেনি। পেটের ব্যাথার কারণে তিনি ঠিকমতো খাওয়াদাওয়া করতে পারতেননা। হয়তো এজন্য তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তবে তার স্বামীর সাথে কারো কোন ঝগড়াবিবাদ ছিলো বলেও তিনি জানান।

এবিষয়ে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করেন মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে রফিকুল ইসলাম।

ডাউয়াবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান রেজ্জাকুল ইসলাম কায়েদ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ দেখে খোজখবর নিয়ে এসেছি। মৃত জয়নাল দোকানী খুবই ভালো লোক ছিলো। তার সাথে এলাকাবাসীর কারো কোনদিন কোন ঝামেলা হয়েছে বলে তিনি শুনেননি। এমনকি অভাবের মাঝে থাকলেও জয়নাল দোকানী কোনদিন ইউনিয়ন পরিষদে এসে সাহায্য সহযোগিতা চাননি।

হাতীবান্ধা থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) এরশাদুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য বৃদ্ধের লাশ লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।