তৃনমুল থেকে উঠে আসা একজন সফল রাজনৈতিক নেতা আসাদুল হাবিব দুলু (পর্ব-২)

|| মেহেদী হাসান জুয়েল ||

উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা লালমনিরহাট। রাজনৈতিক জেলা হিসেবে একসময় এখানে বিএনপির অবস্থা ছিলো খুবই নাজুক।
দলকে সুসংগঠিত এবং শক্তিশালী করার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালের শুরুর দিকে দ্বায়িত্ব দিয়ে জেলা সভাপতি করেন তরুণ জনপ্রিয় নেতা অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু’কে। সেসময় সুদর্শন দুলু’র বয়স ছিলো মাত্র ৩০ বছর। বেগম জিয়ার সেই বিশ্বাসের মূল্য দিতে তখন থেকেই তিনি দল গোছানোর জন্য মাঠে নেমে পরেন। বর্তমানে জেলায় বিএনপির নেতা কর্মীর সংখ্যা তিন লক্ষাধিকের মতো। যোগ্য নেতা তৈরি করেছেন হাজার খানেক। এর বাইরে আরও এক হাজারের অধিক নেতা তৈরি হয়ে আছেন পরবর্তী পদ পদবীর অপেক্ষায়। বর্তমানে তিনি জাতীয় নেতা। দ্বায়িত্ব পালন করছেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও লালমনিরহাট জেলা সভাপতি। ছিলেন সাবেক মন্ত্রী।
সকল নেতাকর্মীদের পাশাপাশি এর মুল কৃতিত্বের অধিকারী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি তার জাদুকরী কৌশলে লালমনিরহাট জেলা বিএনপিকে একটি বিশাল বটবৃক্ষে পরিনত করেছেন। কিভাবে করেছেন তার আংশিক গল্প প্রথম পর্বে প্রকাশিত হয়েছে। আজ প্রকাশ হলো ২য় পর্ব।

||নেতাকর্মীদের প্রতি দুলুর ভালোবাসা ||

আসাদুল হাবিব দুলু লালমনিরহাট জেলা বিএনপির দ্বায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দল গোছানোর জন্য মরিয়া হয়ে যান। তিনি বিভিন্ন উপজেলায় সভা সমাবেশ থেকে শুরু করে লালমনিরহাট সদর আসনের ইউনিয়ন গুলোতে খালেদা জিয়ার কর্মসূচির আদলে গ্রামমার্চ কর্মসূচি গ্রহণ করেন। প্রতিটি ইউনিয়নে টানা দুইদিন করে অবস্থান করে পাড়া মহল্লায় জনসংযোগ ও পথসভা করেন।

আওয়ামিলীগ ও জাতীয় পার্টির নেতাদের যোগদান

আসাদুল হাবিব দুলু’র ব্যক্তি জনপ্রিয়তা এবং বিশ্বাসযোগ্য বক্তব্যের কারণে ধীরে ধীরে বিএনপির কর্মী সংখ্যা বাড়তে থাকে। এতে কপালে ভাজ পড়ে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক নেতাদের। তারা বিভিন্ন ভাবে নেতাকর্মীদের মনোবল ভাংগার জন্য হয়রানি মূলক মিথ্যা মামলা দিতে থাকে। এভাবে কয়েকশো মামলার ভারে পরে যায় লালমনিরহাট জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা।
বিএনপি নেতা দুলু এতে একটুও ঘাবড়ে যাননি। তিনি বেগম জিয়ার পরামর্শে মামলাগুলোর নথি উঠিয়ে সরাসরি হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করে তাদের জামিন করান।

জেল থেকে মুক্তি পাওয়া নেতাদের নিয়ে আসছেন

জামিন না হওয়া পর্যন্ত তিনি জেলে অবস্থানরত নেতাকর্মীদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা করে তাদের সকল সহযোগিতা করেন।

একসময় শুধুমাত্র লালমনিরহাট সদর উপজেলায় রাজনৈতিক মামলার আসামির সংখ্যা দাড়ায় প্রায় পনের’শ এর মতো। তিনি সকল আসামিদের মনোবল ঠিক রাখার জন্য আনুষ্ঠানিক ভাবে বড়বাড়িতে আসামি সম্মেলনের আয়োজন করেন। সেখানে মামলায় জর্জরিত আসামিরা মন খুলে কথা বলেন।

দলের অসুস্থ নেতাকর্মীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন আসাদুল হাবিব দুলু

||অসুস্থ, নিহত এবং শহীদ নেতাকর্মীদের প্রতি মমত্ববোধ ||
আসাদুল হাবিব দুলু’র দীর্ঘ রাজনৈতিক এই সময়ে দলের জন্য নিবেদিত নেতাকর্মীরা অসুস্থ কিংবা মারা গেলে অথবা দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে অনেক নেতাকর্মী শহীদ হন এ জেলায়। খবর শোনার সঙ্গে সঙ্গে তিনি ছুটে যান তাদের বাড়িতে।
অসুস্থ নেতাকর্মীদের চিকিৎসার দ্বায়িত্ব নেন তিনি। দলীয় ফান্ড গঠন করে তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। শহীদ নেতাকর্মীদের পরিবারকে সার্বিক সহযোগিতার ব্যবস্থা করেন দলীয় ফান্ড গঠন করে।

||উল্লেখযোগ্য কয়েকটি||

যুবদল লালমনিরহাট জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক এম এ হালিমকে ভারতে কিডনি অপারেশন করার জন্য দল থেকে ৫/৬ লক্ষ টাকা সহযোগিতা করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে তাকে পৌরসভার মেয়র হিসেবে ধানের শীষের নমিনেশন দেওয়া হয়েছে।

জেলা যুবদলের সভাপতি জাহেদুল ইসলাম খোকনের অকাল মৃত্যুতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন তিনি ও দলের নেতাকর্মীরা। তার ১ম মৃত্যু বার্ষিকীতে কেন্দ্রীয় যুবদলের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে স্মরণ সভার আয়োজন করা হয়। স্মরণ সভার সার্বিক খরচ সহ তার পরিবারকে নগদ ৪ লক্ষ ৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়। গেল ঈদ গুলোতেও তার পরিবারকে সহযোগিতা করা হয়েছে।

অসহায় নেতাকর্মীদের ঘর করে দেওয়ার জন্য টিন এবং নগদ টাকা সহায়তা করেন দুলু

২০১৩ সালের সরকার বিরোধী আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন পাটগ্রাম উপজেলা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক নাসির হোসেন। তার অসহায় পরিবারের পাশে দাড়িয়েছে বিএনপি। সম্প্রতি নাসিরের বোনের বিবাহের সকল ব্যবস্থা বিএনপি থেকে করা হয়েছে। আরও অনেক আগে জাতীয়তাবাদী হেল্পসেল থেকেও ৫০ হাজার টাকা সহযোগিতা করা হয়েছে।
ব্যারিস্টার হাসান রাজিব এবং সকল নেতাকর্মীর সহযোগিতায় নাসিরের অসহায় পরিবারকে বাড়ি করে দেয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর জন্য ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার ফান্ড গঠন করা হয়েছে এবং সেটা জমা রয়েছে। পাটগ্রাম পৌর বিএনপির সভাপতি মোস্তফা সালাউজ্জামান ওপেল ব্যক্তিগত ভাবে পরিবারটিকে জমি লিখে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। জমি রেজিস্ট্রি হলে সেই জমিতে বাড়ি করে দেওয়া হবে।

লালমনিরহাট সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মনিরুজ্জামান মনিরের অকাল মৃত্যুতে তার রুহের মাগফেরাত কামনায় দলীয় ফান্ড থেকে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয় এবং মনিরের স্ত্রীর হাতে সহায়তা বাবদ নগদ ৫০ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয়েছে।

কালিগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সভাপতি,সাবেক ছাত্রনেতা প্রিন্স দুরারোগ্যে পরলে তাকে উচ্চতর চিকিৎসা করার জন্য ভারতে পাঠানো হয় এবং দলীয় নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় তাকে ৩ লক্ষ টাকা সহায়তা করা হয়।

জাসাস জেলা সভাপতি সামসুদ্দোহা বাবু কে চিকিৎসা করার জন্য ১ লক্ষ টাকা সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

জেলা কৃষক দলের সভাপতি নুরুন্নবী মোস্তফার ওপেন হার্ট সার্জারীর জন্য লক্ষাধিক টাকার সহায়তা করা হয়েছে।

নিহত তোজাম্মেলের পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা সহ গরু প্রদান করেন

২০১৯ সংসদ নির্বাচনে রাজপুর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা শহীদ তোজাম্মেল হককে ভোটের দিন প্রকাশ্যে খুন করা হয়। তার অসহায় পরিবারকে ১ লক্ষ টাকা নগদ প্রদান করা হয়েছে এবং জাতীয়তাবাদী হেল্পসেল থেকে একটি গরু প্রদান করা হয়েছে।
এর বাইরে লালমনিরহাট জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের অসংখ্য অসুস্থ ও দুস্থ নেতা কর্মীদের বিভিন্ন ভাবে অর্থনৈতিক সহযোগিতা করে যাচ্ছেন আসাদুল হাবিব দুলু।

বন্যায় ভেঙে যাওয়া বাঁধ নির্মাণের জন্য নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে তিনি নিজেই কাজ করছেন

আসাদুল হাবিব দুলু একজন সাংস্কৃতিক মনা মানুষ। সৌখিন এবং কর্মীবান্ধব নেতা। তিনি এখন আর ব্যক্তি নন, একটি প্রতিষ্ঠান। সকল নেতাকর্মীর একমাত্র অভিভাবক হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করেন তিনি। নেতাকর্মীরাও তাকে সেই সন্মান এবং শ্রদ্ধার চোখে দেখেন। যেকোনো সম্মেলন কোন হৈচৈ এবং গ্রুপিং ছাড়াই সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন হয়। নেতাকর্মীরা তাকে অগাধ বিশ্বাস করেন। এতো বড় একটি সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী। সকলের মন রক্ষা করা কঠিন একটি কাজ। সেখানে পদ বঞ্চিত নেতাকর্মীরা অভিমান করবে এটাই বাস্তব। তারপরও যোগ্যতা অনুসারে তাদেরকে বিভিন্ন জায়গায় দ্বায়িত্ব দেন তিনি।
তিনি দলকে করেছেন সুসংগঠিত। তার দক্ষ নেতৃত্বের কারণে এক সময় এই অঞ্চল এরশাদ ভাইরাসে সংক্রমিত ছিলো। জাতীয় পার্টির ঘাটি হিসেবে স্বীকৃত এই জেলায় জাতীয় পার্টির জয়জয়কার ছিলো। যা ভেঙে তছনছ করে দিয়ে বিএনপিকে একটি বিশাল বটবৃক্ষে পরিনত করেছেন। সত্যিকারের অভিভাবক সূলভ আচরণ এবং শাসন-ভালোবাসার কারণে এর পুরো কৃতিত্বই অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুর। (চলবে….)

বন্যার্ত মানুষের পাশে