তৃনমুল থেকে উঠে আসা একজন সফল রাজনৈতিক নেতা আসাদুল হাবিব দুলু (পর্ব-১)

‌‌‌‌    || মেহেদী হাসান জুয়েল ||

আসাদুল হাবিব দুলু একজন সফল রাজনৈতিক নেতা,সাবেক মন্ত্রী, বিএনপি নির্বাহী কমিটির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং  লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সভাপতি। তিনি নেতা থেকে হয়েছেন জননেতা।  সততা, দক্ষতা,কর্মীদের প্রতি ভালোবাসা আর নিজের সংকল্পের প্রতি একাত্বতাই তাকে আজ এই পর্যায়ে নিয়ে এসেছে বলে মনে করছেন দলীয় নেতাকর্মী থেকে শুরু করে লালমনিরহাটের আপামর জনতা। রাজনৈতিক দ্বায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে তিনি তার সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে লালমনিরহাট জেলা বিএনপিকে সামনে এগিয়ে নিয়েছেন।

পেছন ফিরে দেখা ||
১৯৮৬ সালে তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথম তিনি তালা মার্কার প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচন করেছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন এরশাদ সরকারের সাবেক ডেপুটি স্পিকার রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ ভোলা।
প্রচারণার শেষ দিন আসাদুল হাবিব দুলু ব্যাপক শো-ডাউন করেন। বিমান বাহিনীর বিশাল খোলা মাঠে দুপুরের পর থেকেই চতুর্দিক থেকে বানের পানির মতো লোকজন আসতে থাকে। জনতার ঢল নামে। লোকে গিজগিজ করছে। চারদিকে শুধু মানুষ আর মানুষ আর তালা মার্কার বিভিন্ন রং বেরংগের ফেস্টুন।
একসময় জিন্সের প্যান্ট, পায়ে কেডস্, গায়ে টিশার্ট পরে এলেন আসাদুল হাবিব দুলু। চতুর্দিকে তখন গগনবিদারী শ্লোগান, “দুলু ভাই” “দুলু ভাই”।

তিনি অত্যন্ত স্মার্ট ভংগিতে একটি রিক্সার উপর দাঁড়িয়ে সকলের অভিবাদন গ্রহণ করলেন। তারপর মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে চমৎকার বক্তৃতা দিলেন। আর রিক্সার পাশেই দাঁড়িয়ে সেই দৃশ্য অবাক নয়নে উপভোগ করলো ক্লাস সিক্স পড়ুয়া ছোট্ট এক কিশোর ছেলে। বক্তৃতার পর তিনি সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে বিশাল মিছিলের বহর নিয়ে শহরে ঢুকে পরলেন। সেইদিনই লালমনিরহাট বাসী বুঝতে পারলো এই ছেলে একদিন লালমনিরহাটের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন। বলাবাহুল্য এরশাদ নিয়ন্ত্রিত সেই নির্বাচনে তাকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনে হেরে গেলেও তিনি জনতা থেকে বিচ্ছিন্ন হননি।

এরপর ১৯৯০ সালে উপজেলা নির্বাচনে বিপুল ভোটে আসাদুল হাবিব দুলু নির্বাচিত হন। ৭/৮ মাস তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করেন। এরপর ১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে তাকে নমিনেশন দেওয়া হয়। তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান থেকে পদত্যাগ করে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেন।
তখন এরশাদ ভাইরাসের কারণে রংপুর অঞ্চলে বিএনপির ভোটার ছিলো খুব নগণ্য। ২৭ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত সেই নির্বাচনে তিনি পরাজিত হলেও বিএনপি সরকার গঠন করে। এর কয়েক মাস পর তৎকালীন বিএনপি মহাসচিব এলজিইডি মন্ত্রী ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদার লালমনিরহাট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে (পুরনো) সম্মেলনের মাধ্যমে আসাদুল হাবিব দুলু কে জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দ্বায়িত্ব দেন।

আসাদুল হাবিব দুলু শুধু রাজনৈতিক জীবনেই সফল নয় ব্যক্তি জীবনেও তিনি একজন সফল মানুষ। রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, সময় উপযোগী সিদ্ধান্ত, দুর্দিনে নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ানো থেকে শুরু করে সব জায়গায় তার সরব উপস্থিতি। দলের শৃঙ্খলা রক্ষা থেকে শুরু করে সামাজিক অঙ্গনে সবখানেই তিনি সমানতালে কাজ করে গেছেন। কঠোর পরিশ্রম ও সততার মাধ্যমে তিনি যেমন নেতাকর্মীদের আস্থা অর্জন করেছেন ঠিক তেমনই বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন।

||আলোকিত লালমনিরহাট ||একটি সামাজিক আন্দোলন||

সাধারন জনতাকে উদ্ভুদ্ধ ও সচেতন করার জন্য সাইকেল র‍্যালী

২০০১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে তারেক রহমানের পরামর্শে আসাদুল হাবিব দুলু’কে প্রথমে সেতু মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হিসেবে দ্বায়িত্ব দেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। দক্ষতা দেখালে সেখান থেকে তাকে খাদ্য, দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হিসেবে কাজের ক্ষেত্র বাড়িয়ে আরও বড় দ্বায়িত্ব দেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী। সেসময় তিনি নিজের জেলা সহ সারা দেশের বিভিন্ন দূর্যোগে ছুটে যান এবং দুর্যোগ কবলিত মানুষের পাশে সরকারের পক্ষে সর্বোচ্চ সহায়তা নিয়ে দাড়ান। নিজ জেলার উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন। একই সময় তিনি ১৩ টি সামাজিক অপরাধ চিহ্নিত করে আলোকিত লালমনিরহাটের ঘোষণা দেন। যেখানে বাল্য বিবাহ, মাদক, জুয়া,নারী নির্যাতন সহ ১৩ টি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে এর ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালান তিনি।

গ্রাম থেকে শহর, প্রায় ২৫ কিলোমিটার রাস্তা পারি দিয়ে সামাজিক অপরাধ থেকে সরে আসার জন্য মানুষকে উদ্ভুদ্ধ করেন আসাদুল হাবিব দুলু

প্রচারণার জন্য তিনি হাজার হাজার নেতাকর্মী নিয়ে নিজেই নেতৃত্ব দিয়ে বিশাল সাইকেল র‍্যালী ২৫/৩০ কিলোমিটার পথ যাত্রা করেন। যাহা অব্যাহত রয়েছে। করোনার কারনে ব্যাপক লোক সমাগমের এ কর্মসূচি গুলো স্থগিত করা হয়েছে। এ কর্মসূচি গুলো পুরো জেলায় ব্যাপক সারা পরেছে।

||ঈদ আনন্দ, উৎসাহ ও উদ্দীপনা ||

দেশসেরা ঘোড়বিদ তাসলিমার অসাধারন ঘোড়দৌড় মানুষের মাঝে টানটান উত্তেজনা তৈরি করে

দলীয় নেতাকর্মীদের সবসময় উৎসাহ দেবার জন্য প্রতিবছর ঈদের দিন,কখনো কখনো ঈদের পরদিন ঈদ উৎসবের আয়োজন করা হয়। সেখানে দলের সৌজন্যে খাওয়া দাওয়া,গান বাজনা থেকে শুরু করে সকলের জন্য আইসক্রিম, পিঠা ও চা’পানের ব্যবস্থা করা হয়।

এদিকে বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন থেকে টানা তিনদিন মেলার আয়োজন করেন আসাদুল হাবিব দুলু। সেখানে দেশসেরা ঘোড়বিদ তাসলিমা সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা প্রতিযোগীরা ঘোড় দৌড়ে অংশ নেন। প্রায় লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতিতে আকর্ষণীয় এ ঘোড় দৌড় যেমন মানুষকে আনন্দ দেয়, তেমনি ঘোড়দৌড়ের মতো নেতাকর্মীদের মনোবল বাড়িয়ে দেয় কয়েকগুণ। শীত এলে সকল নেতাকর্মীদের নিয়ে গন পিকনিকের আয়োজন করা হয়। নামমাত্র মুল্যে টোকেন নিয়ে হাজার হাজার নেতাকর্মী এ পিকনিকে অংশগ্রহণ করে থাকে। এছাড়াও বছরের কোন এক সময় বউ-জামাই মেলার আয়োজন করেন তিনি। অত্যন্ত মজার এ বউ-জামাই মেলায় এ অঞ্চলের বিবাহিত সকল নারীরা তাদের স্বামীকে নিয়ে বাবার বাড়ি নাইয়র খেতে চলে আসে। ৩/৪ দিন বাবার বাড়ি বেরানোও হলো আবার মেলাও দেখা হলো।  অর্থাৎ সে সময় ওই অঞ্চলটিতে বউ-জামাই, শশুর-শাশুরী,সালা-সমন্দির একটা বিরাট মিলন মেলা বসে বাড়িতে বাড়িতে। সেই থেকে এ অঞ্চলে এটি একটি সামাজিক উৎসবে পরিনত হয়ে আসছে।

|| ফুটবল ও অন্যান্য খেলা ||

বিএনপির রংপুর বিভাগের ৮ টি রাজনৈতিক জেলাকে নিয়ে জমজমাট ফুটবলের আসর

বিএনপির রংপুর বিভাগের ৮ টি জেলা শাখা নিয়ে ফুটবলের আসর বসে বড়বাড়ির ঐতিহাসিক কলেজ মাঠে। একটি জেলা একটি করে টিম নিয়ে সেখানে অংশগ্রহণ করে। টিম গুলোর নামকরণ করা হয়, ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপি একাদশ, লালমনিরহাট জেলা বিএনপি একাদশ, রংপুর জেলা বিএনপি একাদশ ইত্যাদি। দলীয় খেলোয়াড় ছাড়াও জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক (নাইজেরিয়া) খেলোয়াড়েরা অসাধারণ পারফরম্যান্স করে। এতে দলীয় নেতাকর্মীরা আনন্দের পাশাপাশি অন্য জেলার নেতাকর্মীদের সাথে একটা মেলবন্ধন গড়ে ওঠে। এছাড়াও বিনোদন পিয়াসী সাধারন জনতাকে কিছু হলেও আনন্দের খোরাক জোগায়।
এর বাইরেও হারিয়ে যাওয়া খেলা হা ডু ডু, দাড়িয়াবান্ধা, চেংকুপ্যান্টি,উপান্টি বায়োস্কোপ,গোল্লাছুট, চকরচাল ও ঘুড্ডি উড়ানো সহ বিভিন্ন খেলার আয়োজন করে সারাবছর নেতাকর্মীদের মাতিয়ে রাখেন তিনি।

দেশীয় ঐতিহ্যবাহী হারিয়ে যাওয়া খেলাগুলোকে তিনি ফিরিয়ে আনেন।

১৯৯১ থেকে ২০২১ এই ৩০ বছরে তিলে তিলে কর্মীদেরকে গড়ে তুলেছেন নিজের সেরাটা দিয়ে। বেগম জিয়ার ডাকে রোড মার্চ,লং মার্চ কর্মসূচি গুলোতে শুধু তিনি তার নেতাকর্মীদের নিয়ে অংশগ্রহণ করে ক্ষান্ত থাকেননি, আন্দোলনে অংশ নেওয়া সকল নেতাকর্মীদের মনোবল ঠিক রাখার জন্য লালমনিরহাট থেকে শিল্পীদের দিয়ে গান করাতেন। এতে টানা দুই তিন দিনে অংশ নেওয়া কর্মীদের মাঝে চাঞ্চল্য ফিরে আসতো। কর্মীবান্ধব এই নেতার এক ডাকেই এখনো  পঙ্গপালের মতো ছুটে আসে হাজারো নেতাকর্মী। শুধু দল নয় সাধারন জনতার মাঝেও সমানতালে জনপ্রিয় এই নেতা। তিনি দলের একজন ত্যাগী ও পরিক্ষিত নেতা।

নদী ভাংগনে অসহায় মানুষের পাশে দাড়ানোর জন্য তিনি সহ নেতাকর্মীরা মাটি কেটে বাঁধ নির্মাণ

আসাদুল হাবিব দুলু তৃণমূলেরে রাজনীতি করার কারণে দলের খুঁটিনাটি থেকে শুরু করে এই জনপদের সমস্যা-সম্ভাবনা সবকিছু সম্পর্কেই অবগত রয়েছেন। ২০০১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে তার প্রজ্ঞা ও মেধাকে কাজে লাগানোর জন্য খালেদা জিয়া তাকে মন্ত্রী সভায় জায়গা করে দেন। পাঁচ বছরে তিনি মন্ত্রী থাকাকালীন লালমনিরহাটের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের পাশাপাশি সম্ভাবনাগুলোকে কাজে লাগিয়ে জনগণের আস্থা অর্জন করেন। তিনি যেভাবে দলের নেতাকর্মীদের পাশে ছায়া হয়ে থেকেছেন ঠিক সেভাবেই এই জনপদের জনতার ছায়া হয়ে আছেন। (চলবে)

লেখক- সম্পাদক, লালমনিরহাট নিউজ২৪