কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অক্সিজেন জেনারেটর দিলো ‘মাহবুবুজ্জামান আহমেদ’

বৈশ্বিক মহামারি কোভিড-১৯ এর ভয়াবহতায় সারাদেশে যখন অক্সিজেনের হাহাকার তখন কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মানবতার উপহার হিসেবে অক্সিজেন জেনারেটর পৌঁছে দিলো কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সুযোগ্য,দুইবার এর সফল ও শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান, লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাহবুবুজ্জামান আহমেদ।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের অক্সিজেন সাপোর্ট দিতে এই অক্সিজেন জেনারেটর ব্যবহার করা হবে। এটি মূলত প্রাকৃতিক বাতাসকে পরিশোধনের মাধ্যমে অক্সিজেন তৈরী করে ধারণ করতে পারে । অক্সিজেন জেনারেটর ও কনসেরট্রেটর বাতাসের ২১ শতাংশ অক্সিজেনকে প্রক্রিয়াজাত করে ৯৮ শতাংশে রূপান্তর করে। যন্ত্রটি একটানা সাত ঘণ্টা অক্সিজেন সরবরাহে সক্ষম। এরপর ১০ মিনিট বিরতি দিলে আবারও টানা সাত ঘণ্টা চলে। এবং পরবর্তীতে চাহিদা অনুযায়ী অক্সিজেন সরবরাহ করতে পারবে বলে জানা যায়।

১৪ই জুলাই (বুধবার) দুপুর ১২ ঘটিকার সময় লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে মাহাবুবুজ্জামান আহমেদ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার দেবব্রত কুমার রায় এর হাতে অক্সিজেন জেনারেটরটি হস্তান্তর করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান, প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিরুল ইসলাম হেলাল, সাধারণ সম্পাদক তিতাস আলম সহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।

মাহবুবুজ্জামান আহমেদ বলেন, করোনাকালীন সময়ে সমাজের নিম্মশ্রেণীর জনসাধারণদের সহায়তা করার জন্য সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা আজ কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে অক্সিজেন জেনারেটর হস্তান্তর করেছি। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীরা যেন চিকিৎসা নিতে পারেন সেজন্য আমি উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে সর্বপ্রথম কর্মরত চিকিৎসকদের পিপিই সহ করোনা মোকাবেলা ও প্রতিরোধে সকল প্রকার সামগ্রী ইতিপূর্বে প্রদান করেছি।

তিনি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে আহ্বান জানিয়ে বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের যে শূন্যতা রয়েছে সেটা যদি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ করেন তাহলে আমি বিশ্বাস করি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে মানুষ শতভাগ সুচিকিৎসা পাবে। আমি সবসময় তৃণমূল গরীব দুঃখী মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছি এবং ভবিষ্যতেও আমার ধারা অব্যাহত থাকবে।

উল্লেখ্য, মহামারী করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের আঘাতে দেশে কোভিড আক্রান্ত রোগী ও মৃত্যুহার বেড়েছে। ঈদের আগে দৈনিক মৃত্যুহার ১০০ ছাড়িয়ে যায়। ওই সময় হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে মরনাপন্ন রোগীদের চিকিৎসায় আইসিউও এবং সিসিইউ সিট সঙ্কট তৈরি হয়েছিল। জরুরী অক্সিজেন সিলিন্ডারের ঘাটতি দেখা দেয় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে। এখন আবার কিছুটা কমতে শুরু করলেও বুধবার আবার মৃত্যু ও সংক্রমণের হার বেড়েছে। এছাড়া প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় সেখানকার চিকিৎসা ব্যবস্থা অনেকটা ভেঙ্গে পড়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত দেশে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ অবস্থায় জরুরী ভিত্তিতে অক্সিজেন জেনারেটর কেনা ও সংগ্রহের পরামর্শ রয়েছে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের।