লালমনিরহাটে তীব্র শীত,বিপর্যস্ত জনজীবন। লাগামহীন শীতবস্ত্রের দাম

হিমালয়ের পাদদেশের জেলা লালামনিরহাট, প্রতি বছরের ন্যায় অনান্য জেলার তুলনায় শীত আগে আসলেও যাবে সবার পরে। হিমেল হাওয়া, ঘন কুয়াশা ও তীব্র শৈত্য প্রবাহের কারণে লালমনিরহাট জেলার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। হিমালয়ের পাদদেশের জেলা হওয়ায় কার্তিক মাস থেকে শুরু হয় ঘন কুয়াশার সঙ্গে তীব্র হিমেল হাওয়া। ঘন কুয়াশার কারণে রাতের বেলায় সড়কে লাইট জ্বালিয়ে সাধারণ জনগণ চলাচল করতে দেখা গেছে । বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া রাতে কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। নদীগুলোর তীরবর্তী এলাকার চর ও দ্বীপ চরের মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারন করেছে। বেশি ঠান্ডা পড়ায় এখানকার মানুষজন খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। বৃদ্ধ ও শিশুরা শীতে সবচেয়ে বেশী কষ্ট পাচ্ছে। ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা। বিশেষ করে রেলওয়ে স্টেশনসহ বিভিন্ন স্থানে অবস্থানকারী ছিন্নমুল মানুষগুলো শীতবস্ত্রের অভাবে কষ্ট পোহাচ্ছে পাশাপাশি সরেজমিনে দেখা গেছে লালামনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ি,সটিবাড়ি,সাপ্টিবাড়ি এলাকার মানুষ শীত বস্ত্রের দাম বেশি হওয়ায় কোন রকমে শীত নিবারন করছে। অনেকের অভিযোগ রয়েছে জেলাপ্রশাসন কর্তৃক অনেক কম্বল বিতরন করা হলেও পায়নি তারা।

এদিকে লালামনিরহাট সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের দক্ষিন হাড়িভাঙ্গা (চিনির দিঘী গ্রামের) ৯২ বছরের বৃদ্ধ হাজের আলী হাড়কাঁপানো শীতে জরাজীর্ন রেইন কোর্টেই শীত নিবারন করছে। এছাড়াও একই গ্রামের রাজমিস্ত্রি যিনি কাজ করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় পঙ্গুত্ব বরন করেছেন কামাল আলী (৫৫) নামের ওই ব্যক্তি আক্ষেপ করে বলেন, কোটেকার কম্বল কোটে যায়, হামরা তাক কবার না পাই। আনোয়ার আলী (৫৫) পাশেই সন্ধ্যা বেলা হাড়কাঁপানো এই শীতে গেঞ্জি ও একটি শার্টে শীত নিবারন করছেন। শীতার্ত মানুষগুলো এক টুকরো গরম কাপড়ের জন্য তাকিয়ে আছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ও বিত্তবান লোকদের দিকে।

হাসপাতাল গুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নারী, পুরুষ, শিশু ডায়রিয়া নিউমোনিয়ায় ও হাপানি রোগে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে।

এদিকে হরেক রকমের শীতবস্ত্রের পসরা নিয়ে বসেছে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। দোকানগুলোতে প্রচুর ভীড় লক্ষ্য করা যায়। তবে করোনাকালীন সময় হওয়ায় অনান্য বছরের মতো এবছর বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতি বছরের ন্যায় পুরাতন শীতবস্ত্র না আসায় শীত বস্ত্রের দাম নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে আকাশচুম্বী। লালমনিরহাট জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্র মিশন মোড়, রেলওয়ে স্টেশন, জজ কোর্ট, বিডিআর গেট এলাকায় বসেছে শতাধিকের বেশি অস্থায়ী দোকান। তবে এ সকল দোকানে শীতবস্ত্রের দাম বেশি হওয়ায় নিম্নআয়ের মানুষেরা শীতবস্ত্র কিনতে পারছেনা।

তবে পান্তিক জনগোষ্ঠীর দাবি সরকারি ভাবে যে সকল শীত বস্ত্র বিতরন করা হয় সেটা যারা পাবার যোগ্য তারা যেন বঞ্চিত না হয়। অপরদিকে জেলায় জরুরী ভিত্তিতে শীতবস্ত বিতরনের দাবি জানান, সচেতনমহল।