স্বামীকে ফাঁসানোর চেষ্টায় প্রতারক সুন্দরী স্ত্রী নিজেই হাজতে।

সংসার করার সময় সহজ সরল স্বামীর নিকট হতে প্রতারণামুলক ভাবে হাতিয়ে নেয়া ব্ল্যাংক চেকে ইচ্ছামত ৭৫ লক্ষ টাকা বসিয়ে দায়ের করা মামলার জেরে স্ত্রীকেই হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত। টাংগাইলের ধানবাড়ি উপজেলায় এই ঘটনা ঘটে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, তথাকথিত মানবাধিকার কর্মী নাসরিন সুলতানা প্রায় ১ যুগ আগে রেলওয়ে কর্মকর্তা নাসিরকে ভালোবেসে বিয়ে করে।তাদের দাম্পত্য জীবন ভালোই চলছিল।কিন্তু কিছুদিন পর নাসির জানতে পারেন তার স্ত্রীর সাথে আশিক নামে একটি ছেলের বিয়ের পূর্ব হতেই প্রেম ছিল। ব্যাপারটিতে নাসির প্রথমে কষ্ট পেলেও ভালোবেসে বিয়ে করায় স্ত্রীকে সংশোধনের শর্তে মাফ করে দেন।

সংসার চলাকালে ভালোবাসার স্ত্রীকে বেশি বিশ্বাস করে ফেলেন নাসির। নাসির শিক্ষা ক্যাডার, রেলওয়ে ক্যাডারে চাকুরী করায় বিভিন্ন সময় বাড়ির বাইরে থাকতেন। তাই সাংসারিক খরচ নির্বাহের জন্য স্ত্রীর কাছে নিজের ব্যাংকের এটিএম কার্ড, স্বাক্ষর করা চেক বই রেখে দেন। নাসরিন এই সুযোগ ব্যবহার করে নিজের আখের গোছাতে থাকে।
কর্মক্ষেত্রে স্বামী দূরে থাকার সুবাদে নাসরিনের মধ্যে পুরোনো প্রেম জেগে উঠে। প্রেমিক আশিকের সাথে সে পুনরায় যোগাযোগ শুরু করে। কিন্তু আশিকের সাথে এই অবৈধ সম্পর্কের ঘটনা জানাজানি হতে পারে, এই ভেবে কৌশলে ২০১৪ সালে স্বামীর স্বাক্ষর করা একটা ব্ল্যাংক চেক নিজের কাছে রেখে দেয় নাসরিন।

নাসরিন ‘মিমা’ নামে একটা মানবাধিকার সংগঠন (এনজিও) চালু করে। এনজিওর নামে বিভিন্ন অপকর্ম করে বেড়াতো নাসরিন।

মানসন্মানের ভয়ে এভাবেই ১১ বছর সংসার টিকিয়ে রাখে নাসির। ইতিমধ্যে নাসরিন আশিককে ছাড়াও হৃদয় নামে একটি ছেলের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। আশিককে বাদ দিয়ে হৃদয়ের সাথে সম্পর্ক গড়ার বিষয়টি আশিক মেনে নিতে পারেনি। তাই সে রেগে গিয়ে নাসরিনের স্বামী নাসিরকে সমস্ত বিষয় ফাঁস করে দেয়। আশিক ও নাসরিনের কিছু অন্তরঙ্গ ছবি ও ফোনালাপের রেকর্ড নাসিরকে পাঠিয়ে দেয়।নাসির সব দেখে স্ত্রীকে আদালতের মাধ্যমে ডিভোর্স প্রদান করেন।
বিভিন্ন যুবকের সাথে অপকর্ম করা নাসরিন ডিভোর্স লেটার পেয়ে অথৈ পানিতে পরে যায়। সে নাসিরকে ফাঁসানোর জন্য তার বিরুদ্ধে টাংগাইলে নারী ও শিশু আদালতে একটি ধর্ষন মামলা দায়ের করে।পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন) এবং সিআইডি (ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট)তে দুই দফা তদন্তের পর অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় ধর্ষণ আদালত মামলা খারিজ দেন।
এ তৎপরতা ব্যর্থ হওয়ায় এবার তার সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধে আরেকটি প্রতারণার জ্বাল বোনে নাসরিন। ঘর সংসার করাকালীন ২০১৪ সালে স্বামীর নিকট হতে হাতিয়ে নেয়া স্বামীর স্বাক্ষরিত চেকে নিজ হাতে ৭৫ লাখ টাকা লিখে ব্যাংকে ডিজঅনার করে স্বামীর নামে টাংগাইল চীফ জুডিশিয়াল মাজিস্ট্রেট কোর্টে মামলা দায়ের করে।
নাসির চেক ডিজঅনারের মামলার নোটিশ হাতে পেয়ে বুঝতে পারেন যে, নাসরিন তার সাথে প্রতারণা করে ব্ল্যাংক চেকে ইচ্ছে মতো টাকার অংক বসিয়ে আবার তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। তাই তিনি স্ত্রীর বিরুদ্ধে আদালতে চেক প্রতারণার অভিযোগে দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় মামলা করেন। আদালত বিষয়টি পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন) কে এ বিষয়ে তদন্ত ভার দেন।

পিবিআই গত মাসে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।প্রতিবেদনে স্বামীর সরল বিশ্বাসের সুযোগে স্ত্রী নাসরিন এর চেক প্রতারণার বিষয়টি স্পষ্ট ভাবে উঠে আসে। পিবিআই এর তদন্ত প্রতিবেদন পেয়ে আদালত নাসরিনের নামে সমন জারি করেন।নাসরিন আদালতে হাজির হলে আদালত নাসরিনকে স্বামীর সাথে প্রতারণার জন্য হাজতে প্রেরণ করেন।
স্ত্রীর প্রতারণার ব্যাপারটি টাংগাইলে টক অব দ্য টাউনে পরিনত হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন প্রতারণা করে বেশি পথ এগিয়ে যাওয়া যায়না এটা তার বড় নজির হয়ে থাকল সমাজের মধ্যে।