আদিতমারী উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক সাময়িক বরখাস্ত

ষ্টাফ রিপোর্টারঃ  অবশেষে সাময়িক বরখাস্ত হলেন আদিতমারী উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক ইমরুল কায়েস। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন এর সাথে অসদাচারণ, দুর্ব্যবহার, অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজসহ বিভিন্ন অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত হলেন তিনি।

একই সাথে উপজেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান-১ চিত্ত রঞ্জন রায়’কে উপজেলা পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পরিষদের আর্থিক ক্ষমতাও প্রদান করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের উপ-সচিব নুমেরী জামান স্বাক্ষরিত একটি চিঠি থেকে সোমবার সন্ধ্যায় এ তথ্য জানা গেছে।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মোঃ আবু জাফর সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় সাময়িক বরখাস্তের খবর নিশ্চিত করেছেন।
চিঠিতে বলা হয়েছে তিনি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবার পর থেকে পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরে আর্থিক বিষয়ে অনৈতিক দাবী প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করে আসছেন। এছাড়া পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা নুরেলা আকতার এর সাথে অশোভন আচরন প্রদর্শন করেছেন। উপজেলা চেয়ারম্যানের এসমস্ত কর্মকান্ড উপজেলা পরিষদের কর্মরত কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি করে যাতে উপজেলা পরিষদের কার্যক্রম বাস্তবায়নে অচলাবস্থা সৃষ্টি ও জনস্বার্থ মারাত্নকভাবে বিঘ্নিত হতে পারে।

এ সমস্ত কারণে তার এ পদে বহাল থেকে উপজেলা পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা রাষ্ট্র বা পরিষদের স্বার্থের পরিপন্থী। এ কারণে উপজেলা পরিষদ আইন, ১৯৯৮ (উপজেলা পরিষদ সংশোধন) আইন, ২০১১ দ্বারা সংশোধিত এর ১৩(খ)(১)ধারা অনুসারে লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ ফারুক ইমরুল কায়েসকে আদিতমারী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের পদ হতে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।

উল্লেখ্য গত ১৩ নভেম্বর প্রশাসনের সতেরো জন কর্মকর্তা হুমকী, অসদাচরণসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসকের নিকট প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য একটি অভিযোগ দেন। গত ১২ নভেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভা চলাকালীন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফারুক ইমরুল কায়েস উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কাছে ভিজিডি ও মাতৃত্বকালীন ভাতার কার্ডের অংশ দাবী করেন। চেয়ারম্যানের এই কথার প্রেক্ষিতে আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন বিধি মোতাবেক তালিকা প্রনয়নের কথা বললে ক্ষিপ্ত হয়ে সভাস্থল ত্যাগ করেন উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক।

এর কিছুক্ষণ পরে ইউএনও অফিস সংলগ্ন করিডোরে লাগানো সিসি টিভি ক্যামেরাটি উপজেলা চেয়ারম্যান তার একজন ব্যক্তিগত লোক দিয়ে খুলে ফেলতে থাকেন। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দৃষ্টিতে এলে তিনি তাৎক্ষনিকভাবে সিসি টিভি ক্যামেরা খোলার দৃশ্যটি মোবাইল ক্যামেরা দিয়ে ছবি তুলতে গেলে চেয়ারম্যান ক্ষিপ্ত হয়ে উত্তেজিত অবস্থায় অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করতে থাকেন।

এ সময় চেয়ারম্যান ইউএনও বলেন, ‘বেশি কথা বললে পিটিয়ে নরসিংদী পাঠিয়ে দিব’। এসময় চেয়ারম্যান আরো বলেন, উপজেলা পরিষদ কি তোর বাবার সম্পত্তি, উপজেলা পরিষদ কি তুই চালাবি। এ অবস্থায় উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা চেয়ারম্যানকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করলে উত্তেজিত হয়ে প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তাকে ‘ঘার ধরে উপজেলা পরিষদ থেকে বের করে দিব’ বলে হুমকী দেন। এসময় অন্যান্য অফিসাররা এর প্রতিবাদ জানালে তাদেরকেও গালিগালাজ করেন চেয়ারম্যান। খবর পেয়ে আদিতমারীর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম এর নেতৃত্বে একদল পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন। এরপর উপজেলা প্রশাসনের সকল কর্মকর্তাগণ লালমনিরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দেন।

বরখাস্তের বিষয়ে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মোঃ আবু জাফর-এর সাথে যোগাযোগ করা হলে লালমনিরহাট নিউজ ২৪ কে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের একটি প্রজ্ঞাপনে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।