দেশের কোথাও কোনো ভাস্কর্য হয় তাহলে টেনেহিঁচড়ে ফেলে দেবো: বাবুনগরী

যদি দেশের কোথাও কোনো ভাস্কর্য হয়, যে দলই করুক, সেটি যদি আমারও হয়, আমি টেনেহিঁচড়ে ফেলে দেবো বলে হুংকার দিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের আমির জুনায়েদ বাবুনগরী।

শুক্রবার (২৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের হাটহাজারি উপজেলার পার্বতী মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত তাফসিরুল কোরআন মাহফিলের বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে বাবুনগরী বলেন, ‘আমরা আপনার শত্রু নই। আমরা আপনার দুশমন নই। বঙ্গবন্ধুকে কোনো আলেম-ওলামা হত্যা করেননি। কোনো মাদ্রাসা ছাত্র হত্যা করেননি। তার আপন মানুষরাই তাকে হত্যা করেছেন।’

জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন যে, মদিনা সনদে দেশ চলবে। আমরাও তাই চাই। কিন্তু, মদিনা সনদে তো ভাস্কর্যের কোনো উল্লেখ নেই। মদিনা সনদে দেশ চললে দেশে ভাস্কর্ষ থাকতে পারবে না।’

প্রধানমন্ত্রীকে সতর্ক করে দিয়ে বাবুনগরী বলেন, ‘যারা আপনার ঘাড়ের ওপর বসে আছেন, তারাই আপনার ক্ষতি করবে।’

গ্রেপ্তারকৃত মাদ্রাসার ছাত্রদের মুক্তির দাবিতে প্রয়োজনে ‘কঠিন’ কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ার করেছেন জুনায়েদ বাবুনগরী। তিনি বলেছেন, ‘ঢাকার বিক্ষোভ মিছিল থেকে গ্রেপ্তারকৃত মাদ্রাসা ছাত্রদের যদি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মুক্তি দেওয়া না হয়, তাহলে হেফাজতে ইসলামের ব্যানারে কঠিন কর্মসূচি দেওয়া হবে।’

হেফাজতে ইসলামের আমীর বলেন, ‘হেফাজতে ইসলামের উদ্দেশ্য শান্তি প্রতিষ্ঠা করা। আমরা শান্তি চাই। কিন্তু ইসলামের ওপর আঘাত এলে, আলেম-ওলামাদের অসম্মান করা হলে, আমরা বসে থাকতে পারি না।’

এই মাহফিলে মাওলানা মামুনুল হকের বক্তব্য রাখার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি আসেননি। এই প্রসঙ্গে বাবু নগরী বলেন, ‘একটি মহল বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করায় মামুনুল হক নিজে থেকেই আসতে চাননি।’

তিনি বলেন, ‘মামুনুল হক একজন অভিজ্ঞ আলেম, শায়খুল হাদিস। তার মুখ দিয়ে কোরআন হাদিস বের হয়, তার মুখ দিয়ে বোখারী শরিফ বের হয়। তার ছবিতে যারা অপমান করেছেন, যারা আলেম-ওলামাদের অপমান করেছেন, তাদের ওপর আল্লাহর গজব নাজিল হবে।’ রাত পৌনে ৮টার দিকে জুনায়েদ বাবুনগরীর বক্তব্য শেষ হলে কোরআন মাহফিল সমাপ্তির ঘোষণা দেওয়া হয়।

চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকার বিএমএ মিলনায়তনে ধোলাইর পাড়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য স্থাপনে বিরোধীতা করে বক্তব্য দিয়ে দেশব্যাপী আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেন মামুনুল। এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামে মামুনুল হককে অবাঞ্চিত ঘোষণা করার পাশাপাশি শুক্রবার তাকে প্রতিহত করার কথা জানান চট্টগ্রামের যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতারা।

মামুনুলকে রুখতে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের প্রবেশমুখে সড়কের ওপর অবস্থান নেন যুবলীগের নেতা-কর্মীরা। নগর যুবলীগের আহ্বায়ক মহিউদ্দীন বাচ্চু এতে নেতৃত্ব দেন। পতেঙ্গা এলাকায় অবস্থান নেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। বিমানবন্দর এলাকা ছাড়াও নগরের দেওয়ান হাট, দুই নম্বর গেট এলাকা, অক্সিজেন মোড়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা এবং হাটহাজারীর বিভিন্ন পয়েন্টে দিনভর অবস্থান নেন যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। এ সময় তারা যেকোনো মূল্যে মামুনুল হককে চট্টগ্রামে প্রতিরোধ করার ঘোষণা দেন।

এদিকে বিকেলে কয়েকটি গণমাধ্যম মামুনুল হক বৃহস্পতিবার দিনগত রাতে হাটহাজারী এসে দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় অবস্থান করছেন- এমন সংবাদ দেওয়ার পর গুঞ্জন উঠে সন্ধ্যায় তিনি মাহফিলে আসবেন। বক্তব্য দেবেন। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি মাহফিলে যাননি।