জাতি গঠনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা কী ?

বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অগ্রণী ভূমিকা রয়েছে, আমি সেটা স্বীকার করছি। এমনকি ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনেও ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু আমাদের জাতি গঠনে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা কী? বলতে পারেন ব্যক্তি তৈরি করছে, সরকারের সিভিল সার্ভিসে যাচ্ছে, শিক্ষকতা করছে। এককথায় বীজ দিয়ে বীজ উৎপাদন করছি।আমাদের সমাজ ও সাহিত্যে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা বড় ইফেক্ট থাকা উচিত ছিল।

ইথিকস ক্লাব বাংলাদেশ এর উদ্যোগে দশম নৈতিকতা দিবস উপলক্ষে সোমবার বিকাল চারটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের মোজাফফর আহমদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে এক আলোচনা সভায় তিনি এমন মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মাঝে অসহায়ত্ব লক্ষ্য করছি। এখনো আমাদের ধার করা লেখা-পড়া দিয়ে চলতে হয়। আমরা মৌলিক কিছু রচনা করতে পারছিনা। একটি সমাজ যখন একশ বছরেও কোনো পন্ডিত তৈরি করতে পারে না, তখন বুঝতে হবে সমাজে ত্রুটি আছে।

তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ইথিকস নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, বাংলা ভাষার নামে বাংলাদেশ স্বাধীন করলাম কিন্তু এখন বাংলা ভাষায় দেশ পরিচালনা করতে পারছিনা। আমাদের অনেক যুক্তি আছে গ্লোবালাইজেশন, শিক্ষার মান কমে যাবে, বাংলায় বই কোথায় ইত্যাদি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তো রয়েছে ১০০ বছর। কেন বাংলায় কী বই লিখা যায় না? এডাম স্মিথের বই আকাশ ভাইয়েরা (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রফেসর ও আলোচনা সভার আলোচক) পড়াচ্ছেন বছরের পর বছর। কিন্তু এডাম স্মিথের মতো বই লেখার মতো একজনও বিদ্যাওয়ালা মানুষ পাওয়া যায় না বাংলায় লিখার মতো?

আমি বলি এই বইগুলো স্প্যানিস, জার্মান, জাপানি, হাঙ্গেরি, চাইনিজ, কেরিয়ান অনুবাদ হয়েছে কিন্তু বাংলায় নাই কেন। তাহলে এটার ইথিকস আপনি কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন? এটার জন্য তো বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন শিক্ষক পদ পদবি ছাড়েন নাই। কিন্তু যেগুলো পড়ার মতো সেগুলোও বাংলায় নাই।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকশনে (শিক্ষক সমিতির নির্বাচন) সাদেকা হালিমদের সবুজ টেমপ্লেট আমি পড়েছিলাম; কাগজটাতে আছে আমরা এই বিল্ডিং করেছি সেই বিল্ডিং করেছি কিন্তু গৌরবের সাথে বলতে পারেন না যে বাংলায় এই কয়টা ক্লাসিক বই প্রকাশ করেছি। আমরা যে এথিকস বলতেছি এখন এটা কি এথিকস?

অলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. সাদেকা হালিম, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজবিজ্ঞান অনুষদের চেয়ারপারসন প্রফেসর রাশেদা ইরশাদ নাসির।

নীতি ও নৈতিকতা বিষয়ে আলোচনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রফেসর ড. এম এম আকাশ ও এথিকস ক্লাব বাংলাদেশ এর প্রধান নির্বাহী দিলারা আফরোজ খান রুপা।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে