ক্ষমতায় বসেই সোলেইমানি হত্যার বদলার ঘোষণা কুদস প্রধানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক,ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কুদস ফোর্সের প্রধান হিসেবে ক্ষমতায় বসেই জেনারেল কাসেম সোলেইমানি হত্যার কঠিন বদলা নেবার ঘোষণা দিয়েছেন ইসমাইল কানি। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কাপুরুষোচিত পথ অবলম্বন করে তাদের নেতাকে হত্যা করেছে। শত্রুদের সাহসীভাবে এর জবাব দেওয়া হবে বলে প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করেছেন তিনি।

জেনারেল কাসেম সোলেইমানির মৃত্যুর পর ইসমাইল কানিকে নতুন কুদস প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ উপলক্ষে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। সোমবার ওই অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা গ্রহণের সময় সোলেইমানি হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন ইসমাইল কানি।

তিনি বলেন, তারা (যুক্তরাষ্ট্র) তাকে (সোলেইমানি) কাপুরুষের মতো হত্যা করেছে। কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছায় এবং বিশ্বব্যাপী স্বাধীনতাকামীদের চেষ্টায় আমরা তার রক্তের বদলা নেব। আমরা সাহসী পুরুষের মতো করেই তার শত্রুদের আঘাত করব।

গত ৩ জানুয়ারি ইরাকের রাজধানী বাগদাদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা চালিয়ে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী কুদস ফোর্সের প্রধান জেনারেল কাসেম সোলেইমানিকে হত্যা করা হয়।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তি ছিলেন জেনারেল সোলেইমানি। ইরানের এই জেনারেলের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়েছে এবং দেশ দুটি যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে।

তার মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে গত ৮ জানুয়ারি ইরাকে অবস্থিত দুটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে এক ডজনের বেশি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। এখন পর্যন্ত ইরাকে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে কয়েক বার হামলার ঘটনা ঘটেছে।

চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে ইরাকের রাজধানী বাগদাদের উত্তরাঞ্চলের আল-তাজি বিমান ঘাঁটিতে রকেট হামলা চালানো হয়। যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক সামরিক জোটের সদস্যরা ওই ঘাঁটিতে অবস্থান করলেও এসব হামলায় কোনও হতাহত হয়নি বলে জানানো হয়।

আল-তাজি ঘাঁটিতে হামলার দুদিন আগে বাগদাদের উত্তরাঞ্চলে আরেকটি সামরিক ঘাঁটিতেও রকেট হামলা হয়। এতে ইরাকের সামরিক বাহিনীর অন্তত চার সদস্য আহত হয়। এই ঘাঁটিতেও মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি রয়েছে।

অপরদিকে মঙ্গলবার সকালেও ইরাকের রাজধানী বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসের কাছে তিন দফা রকেট হামলা চালানো হয়েছে। তবে ওই হামলার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। রকেট হামলার পর পরই ওই এলাকায় সতর্কতা সাইরেন বাজতে শোনা গেছে।

মধ্যপ্রাচ্য থেকে সব মার্কিন সেনাকে প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছিলেন জেনারেল সোলেইমানি। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর অন্যতম শাখা অভিজাত কুদস ফোর্স। জেনারেল সোলেইমানি এই বাহিনীর প্রধান হিসেবে ক্ষমতায় থাকাকালীন মধ্যপ্রাচ্যে ইরান গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখতে সক্ষম হয়েছে।

সিরিয়া এবং ইরাকে জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিভিন্ন মিলিশিয়া গ্রুপকে অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিয়ে সহায়তা দিয়েছে কুদস বাহিনী। ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মাশহাদ শহরে ১৯৫০ সালে জন্মগ্রহণ করেন জেনারেল কানি। ১৯৮০ সালে তিনি ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীতে যোগ দেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে