লালমনিরহাটে ভুয়া হোমিও ডাক্তার সেজে হাতিয়ে নিচ্ছেন লক্ষ লক্ষ টাকা

0
1

চিকিৎসা শাস্ত্রে অধ্যয়ন না করেই তিনি ডাক্তার। এলার্জি, ডায়াবেটিস, চর্ম, যৌন, গ্যাস্ট্রিক, জন্ডিস, আলসার, টিউমার, আমাশয়, কিডনি পাথর,টিউমার এমনকি ক্যান্সার রোগের চিকিৎসা সহ সব ধরনের চিকিৎসা দিয়ে থাকেন তিনি, অথচ শারিরীক ভাবে তিনি নিজেই অসুস্থ। তারপরও তিনি হোমিও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সেজে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করছেন। বিষয়টি উদ্বেগজনক।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, শহরের সদর হাসপাতাল হতে নয়ারহাট রোডে (সাবেক বগুড়া ও শাপলা ক্লিনিক) ভিক্টর হোমিও হলের স্বত্বাধিকারী ভিক্টর বদরুজ্জামান। তিনি নিজেকে একজন হোমিওপ্যাথিক বিশেষজ্ঞ ডাক্তার হিসেবে পরিচয় দেন।
অথচ নাম সর্বস্ব হোমিও কলেজ থেকে টাকা দিয়ে সার্টিফিকেট কিনে প্রশাসনের নাকের ডগায় এ ভুয়া চিকিৎসক জমজমাট ব্যবসা করলেও নেয়া হচ্ছে না কোন পদক্ষেপ। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পাস না করে, হোমিওপ্যাথিক বোর্ডের রেজিস্ট্রেশন ও ড্রাগ লাইসেন্স ছাড়াই নামের আগে ডা. লিখে চেম্বার খুলে বসেছেন ভিক্টর। তার কারণে প্রকৃত হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারদের সুনাম নষ্ট হচ্ছে।

ভুয়া ডাক্তার ভিক্টর বদরুজ্জামান
শুরুতে তার গ্রামের বাড়ি ফুলবাড়ির মিয়া পাড়ায় চেম্বার খুলে বসেন। সেখানে বেশ কিছুদিন ব্যবসাও করেন তিনি। এলাকাবাসী তাকে বখাটে হিসেবে চিনতেন। হঠাৎ করে ঢাকা থেকে ফিরে এসে ডাক্তার হলেন কিভাবে এ প্রশ্ন ঘুরেফিরে গ্রামবাসীর মধ্যে আলোচনার জন্ম দেয়। এক পর্যায়ে গ্রামবাসী তাকে তাড়িয়ে দিলে তিনি লালমনিরহাট শহরের নয়ারহাট রোডে তার দোতলা বাড়িতে সাইনবোর্ড খুলে বসেন। তবে এখন আর ডা. পদবী ব্যবহার করেন না। দুজন সহকারীকে নিয়ে বুক ফুলে চালিয়ে যাচ্ছেন অবৈধ পেশা।

তার দেয়া তথ্যমতে, তিনি ৫ বছর আগে ঢাকায় একটি কেমিক্যাল কোম্পানিতে চাকরি করতেন। সেই কেমিক্যাল থেকে তার কিছু অভিজ্ঞতা হয়।এরপর তিনি গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে ফিরে এসেই চেম্বার খুলে বসেন। বিভিন্ন দালালের মাধ্যমে ব্যবসার প্রসারও ঘটে।
এরপর কুড়িগ্রামে হোমিও ডা. দিনেশের মাধ্যমে এক বছরের এক‌টি এইচ. টি. এল সার্টিফিকেট সংগ্রহ করেন।
এরপর আর বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক বোর্ডে চিকিৎসক হিসেবে রেজিস্ট্রেশন করেননি। অথচ তার কথা মতে তিনি কয়েক বছর ধরে ডাক্তারি করে যাচ্ছেন। থেকে যাচ্ছেন ধরা ছোঁয়ার বাইরে।

যথাযথ কাগজপত্র ছাড়াই ডা. হিসেবে সাইনবোর্ড, চেম্বার দিয়ে গ্রামের সহজ, সরল রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছেন। ড্রাগ লাইসেন্স ছাড়াই সাদা পাউডার জাতীয় বস্ততে কেমিক্যাল মিশিয়ে ওষুধ বানিয়ে বিক্রি করছেন। কোনো শিক্ষার্থী বিধি মোতাবেক কোর্স করে রেজিস্ট্রেশন সনদপত্র (চিকিৎসা পেশার অনুমতিপত্র) ছাড়া চেম্বার খুলতে পারে না, নামের অগ্রভাগে ডা. লিখতে পারেন না।

এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম কুড়িগ্রাম হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যক্ষ ইয়াকুব আলী জানান, তার কোনও বৈধতা নেই চিকিৎসা দেয়ার। তিনি যে কলেজের সার্টিফিকেট দেখিয়েছেন সেটি অবৈধ, এবং কলেজটিও অবৈধ। এ ধরনের ডাক্তারের কারণে এ অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে হোমিও সেবায় নিয়োজিত ডাক্তারদের সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নজর দেয়া প্রয়োজন বলে তিনি জানান।

(পাঠক,ভিক্টর বদরুজ্জামান এবং কুড়িগ্রামের ডাক্তার দিনেশের আরো অনেক অজানা কাহিনী আমাদের হাতে এসেছে। সেসব যাচাই বাছাই করে ধারাবাহিক অনুসন্ধানি প্রতিবেদন থাকবে)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here